একাধিক ভাষা

“নিজ ভাষা উন্নতি আহাই, সব উন্নতি কো মূল/ বিন নিজ ভাষা জ্ঞান কে, মিতাত ন হিয়ে কো সুল//

এই দুটি ছন্দোবদ্ধ পদের মধ্য দিয়ে বিশিষ্ট কবি ভারতেন্দু হরিশচন্দ্র একজনের ব্যক্তিত্ব গঠনে মাতৃভাষার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছেন। সেই জন্য ভারতের সংবিধানে ২২-টি আধুনিক ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইংরেজি শিক্ষিতের দেশ হতে পারে, কিন্তু তাই বলে এই আন্তর্জাতিক ভাষা অন্য ভারতীয় ভাষাকে একঘরে করে দেবে সেটা মেনে নেওয়া যায় না। যেহেতু ভারতে বেশিরভাগ ছাত্র মাতৃভাষাতেই লেখাপড়া করে, তাই জ্ঞানস্রোত ইংরেজিকে শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম বলে মনে করে না। জ্ঞানস্রোত চায় বেশিরভাগ ছাত্র এডুটেকের সুবিধা পাক।

জ্ঞানস্রোতের সমীক্ষক, গবেষক দল দেখেছেন যে, বেশিরভাগ সময়ে ছাত্ররা যখন উচ্চ-মাধ্যমিক পড়তে যায়, তখন পঠন-পাঠনের ভাষা ইংরেজি হয়ে যায়। এর ফলে অনেক ছাত্রের ফল খারাপ হয়, এমনকি ভাল ছাত্রদেরও।

এই অসুবিধা এড়াতে জ্ঞানস্রোত মাতৃভাষা এবং ইংরেজি দুই ভাষাতেই পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা রেখেছে উচ্চ-মাধ্যমিক ছাত্রদের জন্য, যাতে তারা পাঠ্যবস্তু মিলিয়ে নিতে পারে। নতুন নতুন শব্দ নিয়ে যাতে তারা অসুবিধে বোধ না করে। ক্লাসে তারা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।

এটা তো ঠিক, যে ভারতের বিশ্বখ্যাত বেশিরভাগ পণ্ডিত মানুষের পড়াশোনা শুরু হয়েছিল কোন না কোন প্রধান ভারতীয় ভাষাতেই। প্রবাদেই তো আছে ‘যদি তুমি কোন ব্যক্তির হৃদয় ছুঁতে চাও, তাহলে তার ভাষাতেই তার সঙ্গে কথা বল। ’